স্বপ্নপূরনের সংগ্রামে আত্নবিশ্বাসী চংকক ম্রো’র একদল শিশুরা

 48 total views,  1 views today

 

পারভেজ হায়দার:

পাহাড়ের দূর্গমতা যাদের উদ্যমকে বেঁধে রাখতে পারেনি, নিত্যনৈমত্তিক প্রাকৃতিক দূর্যোগ যাদের আত্নবিশ্বাসে চিড় ধরাতে পারেনি, অর্থকষ্ট যাদের মুখের হাসি কেড়ে নিতে পারেনি, শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যাই নয় প্রকৃত মানুষ হবার উদ্দেশ্যে নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব যাদের কাছে সবচেয়ে আগে, আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হয়েও আধুনিক মানুষিকতার মানুষ হতে কোনকিছুই যাদের বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি আর সর্বোপরি পারিপ্বাশ্বিকতার মনোভাব যেমনই হোক না কেন প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্য ভালোবাসা যাদের কাছে অগ্রগন্য ওরা আর কেউ নয়, ওরা হলো বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার দূর্গম চংকক ম্রো পাড়ার স্বপ্নবিলাসী আর আত্নবিশ্বাসী ফুলের মতো একদল শিশু। আর এই স্বপ্নবিলাসী শিশুদের মানুষের মতো মানুষ হয়ে উঠার কারিগর, প্রকৃতির সন্তান মেং রুং ম্রো। প্রকৃতি আর মেং রুং ম্রো’র মাঝে সখ্যতা ও নিবিড়তা এতটাই বেশেী যে, একে অন্য থেকে আলাদা করা কঠিন। নিজে খুব বেশী পড়াশুনা করতে না পারলেও চংকক ম্রো পাড়ার একদল শিশুদের স্বপ্নদ্রষ্টা হয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

ছবি-১: প্রকৃতির সন্তান ও পাওমুমের স্বপ্নদ্রষ্টা মেং রুং ম্রো।

চংকক ম্রো পাড়া বান্দরবান জেলার লামা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৩-১৪ কিলোমিটার দূরে দূর্গম একটি স্থানে অবস্থিত। লামা উপজেলা সদর থেকে চংকক ম্রো পাড়া পর্যন্ত গমনা-গমনের একমাত্র উপায় পায়ে হাঁটা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ৮-১০ কিলোমিটার পর্যন্ত মোটরসাইকেল যোগে যাওয়া সম্ভব। এরপর থেকে দূর্গম পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে অনেক ঝিরি আর পাহাড়ী ছড়া ডিঙ্গিয়ে চংকক ম্রো পাড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে হয়। দূর্গমতার কারণেই আধুনিকতার ছোয়া খুব একটা লাগেনি ওই পাড়াতে। তবে অতি সাম্প্রতিক সময়ে সোলার বিদ্যুৎ এর মাধ্যমে ‍কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে পাড়ার মানুষগুলোর মধ্যে। ঐ এলাকার অনগ্রসরতা আর দূর্গমতার কারণেই শিক্ষার আলো পৌঁছাতে পারেনি যুগের পর যুগ। অনেকটা শিক্ষা বঞ্চিতভাবেই ওদের শিশুরা বেড়ে উঠছিলো। বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি মেং রুং ম্রো। নিজের স্বল্প শিক্ষা বাধা হয়ে দাড়াতে পারেনি তার কাজে।

ছবি-২: চংকক ম্রো পাড়ার স্বপ্ন, পাওমুম স্কুলের নির্মানাধীন ঘর।

তার স্বপ্নের কথা সে যখন ঐ এলাকার কার্বারী চংকক ম্রো ও হেডম্যান সিংপাশ ম্রো লুলাইং কে বলেছিলো, বিশাল হৃদয়ের অধিকারী ঐ মহান ব্যক্তিগণ মেং রুং ম্রো কে ফিরিয়ে দেন নি। তার জন্য প্রয়োজনীয় জমি আর পাড়ার সবাই মিলে স্কুলের অবকাঠামো তৈরীর ব্যবস্থা করে দিয়েছিলো। ২০১২ সাল থেকে বেড়ে উঠা মেং রুং ম্রো’র স্বপ্ন ২০১৬ সালে এসে আলো মুখ দেখলো। ব্যবস্থা হয়ে গেলো ৬০ জন ছাত্র-ছাত্রীর জন্য শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য উপযোগী কয়েকটি শ্রেণীকক্ষ আর বসবাসের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৩৫ জন ছাত্র, ২৫ জন ছাত্রী, শিক্ষাদানের জন্য ৩জন নিরলস পরিশ্রমী শিক্ষক রয়েছেন। আর আবাসিকভাবে বসকারী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একজন বাবুর্চিও রয়েছেন।

 

ছবি-৩: প্লাষ্টিক সামগ্রী কুড়ানোর প্রতিযোগীতায় পাওমুমের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।

আমাদের শহরে নামী-দামী স্কুল ও কলেজগুলোতে গতানুগতিক শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশী দেওয়া হয়। আমরাও স্বপ্নে বিভোর থাকি আমাদের সন্তানদের জিপিএ ৫ জাতীয় গ্রেডিং এর জন্য। অধিকাংশ বিদ্যালয় ও কলেজগুলোতেই নৈতিক শিক্ষার রয়েছে ব্যাপক ঘাটতি। আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা সমাজের মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে কি-না এবিষয়ে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়না। তাই বড় বড় শহরগুলোতে নামী-দামী বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ে পড়া-লিখা করেও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি আমরা এড়িয়ে যাওয়া চেষ্টা করি।

ছবি-৫: প্লাষ্টিক সামগ্রী কুড়ানোর পর স্কুলের বারান্দায় জড়ো করা হয়েছে।
ছবি-৪: প্লাষ্টিক সামগ্রী কুড়িয়ে নিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা।

চংকক ম্রো পাড়ার মেং রুং ম্রো’র স্কুলে নৈতিক শিক্ষার উপর ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিমাসে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য প্লাষ্টিক সামগ্রী কুড়ানোর প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থী এবং একই সাথে স্থানীয়দের মধ্যে এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে উৎসাহিত করা হয়। বিদ্যালয়ের শিশুরা তাদের স্কুল প্রাঙ্গন, আবাসিক হোস্টেল এবং আশেপাশের পাড়া/গ্রাম এলাকায় মাসের ১ম সপ্তাহের ১ম ছুটির দিনে অযাচিতভাবে বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা প্লাষ্টিক কুড়িয়ে জমা করে। সর্বোচ্চ প্লাষ্টিক সংগ্রহকারী ৩জন শিক্ষার্থীকে উৎসাহ দেবার জন্য পুরস্কৃত করা হয়। বর্তমানে পৃথিবীর সব জায়গায় প্লাষ্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে যে প্রচারণা চলছে তারই অংশ হিসেবে পরিবেশ বাঁচানোর জন্য এই পাড়ায় একটি সুন্দর উদাহরণ তৈরী করা হয়েছে। একই সাথে এই কর্মকান্ড ঐ শিশুদের সামাজিক কর্তব্য সম্পর্কে উৎসাহিত করে গড়ে তুলছে।

ছবি-৭: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জাতীয় পতাকা হাতে পাওমুমের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।
ছবি-৬: মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে শহীদ বেদিতে ফুল দিচ্ছে পাওমুমের শিক্ষার্থীরা।

মেং রুং ম্রো’র বিদ্যালয়টিতে মাতৃভাষার উপর যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়। প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এই বিদ্যালয়ে চলে ব্যাপক আয়োজন। শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া আর প্রভাত ফেরীতে অংশ গ্রহণ করার পাশাপাশি এই দিনের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয় স্কুলটিতে।

ছবি-৯: মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে শহীদ ‍মিনারে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।
ছবি-৮: শিকারীদের হাতে আটক ও পরবর্তীতে জঙ্গলে অবমুক্ত করা হরিণ ছানা।

এই স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য উদাহরণ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন পদক্ষেপও মাঝে মাঝে নেওয়া হয়।

যেমন, কিছুদিন আগে শিকারীদের হাতে একটি হরিণ ছানা ধরা পড়ার পর হরিণটি উদ্ধার করে জঙ্গলে অবমুক্ত করা হয়। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে শিশু শিক্ষার্থীদের সামনে “বন্যরা বনে গিয়ে সুন্দর থাকুক, সুখে থাকুক” এই স্লোগান মনস্তাত্ত্বিকভাবে তারা গ্রহন করে।

ছবি-১০: বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি চংকক ম্রো কার্বারী শিক্ষার্থীদের সাথে গল্প করছেন।

শুধু মেং রুং ম্রোই না বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি চংকক ম্রো কার্বারী আর মহিলা সমিতির সভাপতি কৃতাং ম্রো শিশুদের সাথে জীবন ঘনিষ্ঠ গল্প করে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে সাহায্য করেন।

ছবি-১১: মহিলা সমিতির সভাপতি কৃতাং ম্রো।

মেং রুং ম্র ‘র শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পাড়া থেকে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পাহাড়ী ছড়ার ওপর একটি বাঁশের তৈরী সাঁকো ছিলো। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে কিছুদিন পূর্বে ঐ সাঁকোটি ভেঙে পড়লে ৪ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রায় ২ ঘন্টা পায়ে হাঁটার দূরত্বে চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিলো।

ছবি-১২: প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে ভেঙে পড়া সাঁকো।

স্রষ্টা সহায় থাকায় ঐ শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এদিকে প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে সাঁকোটি ভেঙে পড়লেও শিশুদের মনোবল ভাঙেনি, বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ হয়নি শিক্ষার্থীদের। বরং তারা পাহাড়ী ছড়ার পানি ডিঙিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতো।

ছবি-১৩: সাঁকো ভেঙে পড়ার পরেও মনোবল ভাঙেনি শিক্ষার্থীদের।

 

ঐ সময় সাঁকোটি পুনরায় নির্মানের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের সহায়তা না পেলেও স্থানীয় জনসাধারণ পিছু হটেনি। তারা নিজেদের উদ্যেগে আত্নবিশ্বাসী হয়ে পুনরায় আবার একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছিলেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ফিরে এসেছিলো প্রানচাঞ্চল্য।

ছবি-১৪: গ্রামবাসীর সহায়তায় পুনরায় নির্মিত সাঁকো উদ্বোধন করছে শিশুরা।

এই বিদ্যালয়ে পড়াশুনায় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন প্রতিযোগীতামূলক ব্যবস্থাদি রাখা হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় বছর শেষে একজনকে সেরা ছাত্র হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়। গতবছর মাংরাং ম্রো নামে নামে একজন ছাত্রকে সেরা চৌকস মেধাবী ছাত্রের পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।

ছবি-১৫: গত বছর সেরা ছাত্র হিসেবে পুরস্কার পাওয়া ‘মানসার ম্রো’।
ছবি-১৬: ফনীর আঘাত থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে নির্মিত টেম্পোরারি সাইক্লোন সেন্টার।

পার্বত্য এলাকায় প্রাকৃতিক দূর্যোগ একটি নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার। প্রাকৃতিক দূর্যোগসহ কোনকিছুতেই হার না মেনে আত্নবিশ্বাসে বলিয়ান হয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এটাই হওয়া উচিত মূল উদ্যেশ্য। কিছুদিন আগে সাইক্লোন ফনীর আঘাত থেকে রক্ষা পেতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাহায্যে পাহাড়ের নীচে স্কুলের খেলার মাঠে “টেম্পোরারি সাইক্লোন সেন্টার” তৈরী করা হয়েছিলো।

ছবি-১৭: ঝড়ে উড়ে যাওয়া পাওমুমের হোস্টেল ।
ছবি-১৮: স্কুলের পাশে বসবাস করা শিক্ষার্থীরা পায়ে হেঁটে স্কুলে আসছেন ।

পাহাড়ের চূড়ায় বিদ্যালয় আর আবাসিক হোস্টেলের অবস্থানের কারণে সাইক্লোনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা থেকেই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিলো। গত ফেব্রুয়ারি ২০১৯ এ ঝড়ে পাওমুমের হোস্টেল উড়ে গেলে বিদ্যালয় কমিটি এবং অন্যান্য সহযোগী বন্ধুদের সহায়তায় পুনরায় হোস্টেলটি নির্মান করা হয়। ঐ সময় হোস্টেলের বেশ কিছু শিক্ষার্থীদের আশে-পাশের দুই পাড়ার বিভিন্ন ঘরে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। এখানে উল্লেখ্য, আবাসিক ব্যবস্থাপনা ঐ বিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত জরুরী। কারণ, দূর-দূরান্ত থেকে পায়ে হেঁটে বিদালয়ে এসে আবার নিজ গৃহে ফিরে যাওয়াটা শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য কষ্টটসাধ্য। তবে যাদের বাড়ি বিদ্যালয়ের কাছাকাছি স্থানে তারা নিজের বাড়িতে অবস্থান করেই বিদ্যালয়ে আসে।

ছবি-১৯: শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত পরবর্তী ৬ মাসের ঔষুধ মজুদ করা হয়েছে ।

 

ওই বিদ্যালয়ের আবাসিক ব্যবস্থাপনাতে রয়েছে প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী এবং দৈনন্দিন জীবন পরিচালনাকারী প্রায় সকল উপকরণ। শিশু শিক্ষার্থীদের খাবার ও প্রাত্যহিক জীবনের সকল কর্মকান্ড সম্পাদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা রয়েছে।  এমনকি পাওমুমের শুভাকাঙ্খী ও বন্ধুদের অনুদানে পরবর্তী ৬ মাসের নানা ধরনের প্রয়োজনীয় ঔষধ মজুদ করা হয়েছে।

ছবি-২০: শিক্ষার্থীদের প্রভাতকালীন প্যারেডের দৃশ্য।

সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃংখলা ও নিয়মানুবর্তিতা আনয়নের জন্য এই বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রভাতকালীন প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এই প্যারেডের সময় বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের প্রতি দেশপ্রেম বৃদ্ধির জন্য দেশাত্ববোধক কবিতা, গান, নাচ ইত্যাদির প্রশিক্ষন ও পরিবেশনা নিয়মিতভাবে করা হয়।

 

প্রকৃতি প্রেমিক মেং রুং ম্রোর এই বিদ্যালয়, এলাকার জনগন আর শুভাকাঙ্খীদের সহায়তায় গঠনমূলকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। আত্নত্যাগী মেং রুং ম্রোর নিজের জন্য কোন চাহিদা নেই। সে কোন বেতনও গ্রহণ করে না। প্রকৃতি ও শিশুদের জন্য পুঁজনীয় এই ভালোবাসা সকল স্বার্থের উর্ধে। এই বিদ্যালয় পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ প্রচার বিমুখ।

অনেক সংস্থা ও সংগঠন মেং রুং ম্রো’র এই উদ্যেগের কথা জানতে পেরে সহযোগীতা করতে চেয়েছে কিন্তু তাদের প্রত্যেকের সহযোগীতার পেছনে এক ধরনের স্বার্থ কাজ করেছে। প্রত্যেকেই চায় সহযোগীতার আড়ালে তার নিজের অথবা সংস্থার ব্যানার ব্যবহার করতে। অর্থাৎ তাদের সহযোগীতামূলক পদক্ষেপকে বানিজ্যিকীকরণ করতে চায়। মেং রুং ম্রো রা তাদের শিশুদের এই অদম্য পথচলাকে বানিজ্যিকীকরণ চায় না। তারা প্রকৃতির সাথেই বেড়ে উঠতে চায়। তারা মনে করে অদম্য আত্নবিশ্বাস আর বড় হয়ে উঠার স্পৃহা থাকলে স্বপ্নজয় কোন বাধাই না।

সাউথইস্ট জার্নালের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় চংকক ম্রোঃ

 

Share this:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *