বঙ্গবন্ধুর অকৃত্রিম মমত্ব আর গভীর ভালবাসার পার্বত্য চট্টগ্রাম

পারভেজ হায়দারঃ

পার্বত্য চট্টগ্রামের কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের প্রচারনায় সাধারণত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাহাড়ের মানুষগুলোর প্রতি প্রগাঢ় মমত্ব ও ভালবাসা সম্পর্কে প্রায়শই অপব্যাখ্যা করা হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের মধ্যে যে ধ্বংশযজ্ঞ অবস্থা ছিলো, সেই অবস্থা থেকে কাটিয়ে ওঠার জন্য বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ দেশকে যেভাবে এগিয়ে নিচ্ছিলো, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ এই জনগোষ্ঠী সেই প্রক্রিয়া থেকে বিচ্যুত ছিলো না। বঙ্গবন্ধুর পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত পদক্ষেপগুলো তখন যে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক ছিলো, তা সম্ভবত তৎকালীন পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর নেতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমাও উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। সেই জন্য তিনি বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাকশালে যোগদান করেছিলেন।

ছবি-১: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জনগোষ্ঠীই তৎকালীন চাকমা সার্কেল প্রধান ত্রিদিব রায় কিংবা বোমাং সার্কেল প্রধান অং শু প্রু চৌধুরীর মতো দেশ বিরোধী ছিলো না। পাহাড়ের অধিকাংশ জনগনই তখন বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে সক্রিয় ভাবে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলো। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণ-অভ্যুথান এমনকি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেও সম্পৃক্ত ছিলেন অনেক পাহাড়ী নেতা। এ প্রসঙ্গে ভাষা সৈনিক উসুয়ে হাওলাদারের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৬৬ সালে লাহোরে বঙ্গবন্ধুর পেশ করা ৬ দফার দাবিতে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে যখন অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হচ্ছিলো, তখন বঙ্গবন্ধুর অনুসারী অনেক পাহাড়ী নেতা-কর্মীরা পার্বত্য চট্টগ্রামে দোকান-পাট, রাস্তা-ঘাট অচল করে দিয়েছিলো। এছাড়া ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলো। তৎকালীন মং সার্কেল প্রধান মং প্রু সাইন তার সংগ্রহে থাকা ৪২ টি বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে সহায়তা করেই থেমে থাকেন নি, তিনি তার সহায়-সম্পত্তির একটা বড় অংশই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রয়োজনে ব্যয় করেছিলেন। চাকমা সার্কেল প্রধান ত্রিদিব রায় আর তার পরিবারের কতিপয় সদস্য পাকিস্তানের পক্ষে সরাসরি কাজ করলেও, চাকমা রাজ পরিবারের অন্যতম সদস্য, ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী কুমার কোকোনাদক্ষ রায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ পূর্বকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর দৃঢ় ব্যক্তিত্বের ভক্ত ছিলেন প্রায় সকলেই। শুধুমাত্র তার আহবানে সাড়া দিয়ে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর আরো অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেছিলেন। ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)’র রমনী রঞ্জন চাকমা, ইউক্যচিং মারমা (বীরপ্রতিক), হেম রঞ্জন চাকমাদের বীরত্ব ঐ সময় যথেষ্ঠই আলোচিত হয়েছিলো। এছাড়া রণ বিক্রম ত্রিপুরা, সুবোধ বিকাশ ত্রিপুরা, হেম রঞ্জন ত্রিপুরাসহ অসংখ্য পাহাড়ী জনগোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভাবে অংশ নিয়েছিলো।

ছবি-২: মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা।

পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর প্রতি বঙ্গবন্ধুর যে বিশেষ মমত্ব ছিলো, তা’ তার দক্ষ দিক নির্দেশনাতেই প্রতিফলত হতো। ১৯৭৩ সালের নতুন সংবিধানের অধীনে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু রাঙ্গামাটি সফরে গিয়ে এক জনসভায় ঘোষনা করেন “পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতিদেরকে জাতিতে পদোন্নতি করা হলো, আজ থেকে সকলে বাঙ্গালী”। কিন্তু স্বার্থান্বেষী মহল বঙ্গবন্ধুর এই ভালবাসা ও মমত্বমাখা বক্তব্যকে অপব্যাখ্যা করার অপপ্রয়াস চালিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত করার প্রক্রিয়ায় মেতে উঠেছিলো। তৎকালীন সংসদ সদস্য এমএন লারমার ভাই সন্তু লারমা বঙ্গবন্ধুর ঐ বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করে জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন এবং একই সাথে একটি গোপন সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার প্রস্তুতিও গ্রহণ করছিলেন। অথচ তারই ভাই এমএন লারমা বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং তার বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ বুঝতে পেরে পরবর্তীতে বাকশালে যোগদান করেছিলেন। এ ব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশিষ্ট গবেষক ডা. এ কে দেওয়ান তার “পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বঙ্গবন্ধু” গ্রন্থে লিখেছেন, “বঙ্গবন্ধু বোঝাতে চেয়েছেন স্বাধীন বাংলাদেশে কোন জাতিভেদ থাকবে না। একজন বাঙ্গালী যে অধিকার ভোগ করে, একজন পাহাড়ীও সেটি ভোগ করার অধিকার রাখবে”।

ছবি-৩: সন্তু লারমা।

বঙ্গবন্ধু যে কতটা বিশাল হৃদয়ের ব্যক্তিত্ব ছিলেন তা তার কয়েকটি সিদ্ধান্তে অনুধাবন করা যায়। যে ত্রিদিব রায় মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রাজাকারের ভূমিকায় অবতীর্ন হয়েছিলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা হত্যার কারণ হয়েছিলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হবার প্রাক্কালে দেশকে সহ্য করতে না পেরে পাকিস্তানে পাড়ি জমিয়েছিলেন, সেই ত্রিদিব রায়কে দেশে ফেরানোর জন্য বঙ্গবন্ধু আমেরিকায় বিশেষ দূত প্রেরণ করেছিলেন। তার মত সিংহ হৃদয়ের মানুষের পক্ষেই এই রকম ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে সবকিছু দেখা সম্ভব। ত্রিদিব রায়ের দেশ বিরোধী কর্মকান্ড এবং পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর আহবানে তার দেশে ফিরে না আসা স্বত্ত্বেও বাংলাদেশে ঐ সময়ে অবস্থানরত  ঐ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের যথাযোগ্য সম্মান তিনি দিয়েছিলেন, এমনকি ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সময়ে ৮ম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত দেবাশীষ রায়কে সার্কেল প্রধান হিসেবে অভিষেক করার উদ্যোগও তিনি গ্রহণ করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর মতো তার সুযোগ্য কণ্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাও তার পিতার মতো বিশাল হৃদয়ের অধিকারী হয়েছেন। যে সন্তু লারমা  গত শতাব্দির শেষের দিকে প্রায় দুই যুগের বেশী সময় ধরে বাংলাদেশের স্বার্থ বিরোধী কাজ করেছেন, অসংখ্য নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যসহ বাঙ্গালী হত্যার কারণ হয়েছেন সেই সন্তু লারমাকে দেশের স্বার্থে, পাহাড়ী জনগনের স্বার্থে আর পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষে তাকে ক্ষমা করে দিয়ে তার সাথে শান্তিচুক্তি করেছিলেন। এ জাতীয় পদক্ষেপ বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের পক্ষেই সম্ভব।

ছবি-৪: ত্রিদিব রায়।

বঙ্গবন্ধু সবসময় পশ্চাৎপদ পাহাড়ী জনগনকে সমতলে অবস্থানরত জনগোষ্ঠীর একই কাতারে নিয়ে আসার ব্যাপারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কোটা প্রবর্তনের নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। ফলশ্রুতিতে তৎকালীন সময়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ৩টি, চট্টগ্রাম মেডিকেলে ২টি, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩টি, কৃষি কলেজে ২টি এবং পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট’এ ৫টি করে আসন সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। শুধুমাত্র বিশেষ কোটার ঘোষনা দিয়েই বঙ্গবন্ধু তার দায়িত্ব শেষ করেননি, তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি আবাসিক বাসস্থানের বরাদ্দও দিয়েছিলেন যাতে করে পার্বত্য চট্টগ্রামে থেকে শিক্ষার্থীরা ঢাকা ও চট্টগ্রামে অবস্থান করে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ, যা মুক্তিযুদ্ধকালীন ধংসস্তুপ থেকে আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, ঐ সময়েও বঙ্গবন্ধুর কাছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ঐ সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা বৃত্তির মাধ্যমে উচ্চ ডিগ্রী লাভেরও সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছিলো। তখন বহু পাহাড়ী শিক্ষার্থী ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, নার্সিংসহ বিভিন্ন উচ্চ ডিগ্রী লাভে সক্ষম হয়েছিলো। পাহাড়ের শিক্ষার্থীরা সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় পোল্যান্ড, সোভিয়েত ইউনিয়ন, হাঙ্গেরী, পূর্ব জার্মানি, ভারত, কিউবাসহ অন্যান্য দেশে শিক্ষালাভ করার সুযোগ পেয়েছিলো। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে, পাকিস্তান আমলে ত্রিদিব রায় যখন চাকমা সার্কেলের প্রধান ছিলেন তখন তিনি উপজাতি জনগনের উচ্চ শিক্ষার ঘোর বিরোধী ছিলেন। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যগণ অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, ভারত এমনকি ইংল্যান্ড গিয়েও পড়াশুনা করেছিলেন। কিন্তু ত্রিদিব রায়েরা কখনো পাহাড়ী জনগনের উচ্চ শিক্ষার কথা আমলে নেয় নি। ১৯৬৬ সালে রাঙ্গামাটিতে যখন কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিলো ত্রিদিব রায় তখন এর ঘোর বিরোধীতা করেছিলেন।

পাহাড়ের উন্নয়নে বর্তমানে আমরা যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড দেখতে পাই, এই ধরণের একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করার রুপরেখা ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুই গ্রহণ করেছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা আর অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির মানোন্নয়নে একটি বিশেষ সমন্বয়ক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, বঙ্গবন্ধু তার সুদূরপ্রসারী চিন্তা-চেতনা আর বিচক্ষণতার মাধ্যমে তা উপলব্ধি করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু পার্বত্য চট্টগ্রাম সফরে এসে সকল পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ জনগনের সাথে কথা বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর মতো বিশাল হৃদয়ের ব্যক্তিত্ব, যিনি তার দূরদৃষ্টি দিয়ে ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে বাংলাদেশকে উন্নত পর্যায়ে নিতে হলে একটি বিশেষ ধরণের সরকার কাঠামো প্রয়োজন এবং তিনি যখন বাকশাল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন তখন পাহাড়ী জনগনের কাছে সেই বিষয়ে তাদের মতামত ও কোন মন্তব্য আছে কি-না, এ বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন। বঙ্গবন্ধুর সূদুরপ্রসারী পরিকল্পনার মধ্যে ছিলো, গ্রাম পর্যায়ে একটি করে সমবায় সমিতি গঠন, যেখানে সকল কর্মক্ষম ব্যক্তি কাজ করবে কিন্তু জমির মালিকানা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছেই থাকবে। তিনি ঘুনে ধরা সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য সূদুর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সম্ভব হলে পার্বত্য এলাকায় সাধারণ পাহাড়ীদের উৎপাদিত পণ্য দূর্গমতার কারণে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতো না। বঙ্গবন্ধু থানা পর্যায়ে একটি করে কাউন্সিল কমিটি গঠন করতে চেয়েছিলেন যেখানে সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সমাজ উন্নয়নে কাজ করবে, এছাড়া জেলা পর্যায়ে আরো একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করার পরিকল্পনা তার ছিলো, যাতে সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ড পর্যবেক্ষন করা যায়। বঙ্গবন্ধু নির্যাতিত ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন। এছাড়াও সাধারণ মানুষ যাতে সময়মতো সুবিচার পায় সেজন্য থানা পর্যায়ে বিশেষ একটি ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনাও তিনি করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু তার মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগনের উন্নয়নের কথা বিবেচনা করে, পাহাড়ী জনগনের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে, তিনি নতুন রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে মং সার্কেলের প্রধান মং প্রু সাইনকে খাগগড়াছড়ির, বোমাং সার্কেলের প্রধান অং শু প্রু চৌধুরীকে বান্দরবান এলাকার এবং দেবাশীষ রায় নাবালক হওয়ায় তৎকালীন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক এ এম আব্দুল কাদেরকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছিলেন। একই সাথে এই তিন এলাকার সেক্রেটারি হিসেবে খাগড়াছড়িতে অনন্ত বিহারী খীসা, বান্দরবানে বোমাং রাজপুত্র কে এস প্রু এবং রাঙ্গামাটিতে চারু বিকাশ চাকমা নিয়োগ লাভ করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর সূদুরপ্রসারী পরিকল্পনাতে উন্নয়নের অমিত সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় তৎকালীন সময়ে পাহাড়ের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলো। আজ ১৫ই আগষ্ট ২০১৯, জাতীয় শোক দিবস। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে এই অঞ্চলের মানুষের প্রতি এক প্রকার ভালোবাসা আমারও তৈরী হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর গৃহীত পদক্ষেপগুলো যদি সঠিকভাবে চলমান রাখা যেত, আর যে সূদুরপ্রসারী পরিকল্পনা তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে করেছিলেন, সেগুলো যদি বাস্তবায়ন করা যেত, তাহলে পৃথিবীর মানুষ সমগ্র বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় উন্নয়নের সাথে সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নও শ্রদ্ধার চোখে দেখতো। ঐ রকম একটি পরিবেশ তৈরী হলে হয়তোবা সন্তু লারমার দেশ বিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে জনগনই প্রতিরোধ গড়ে তুলতো। আর ত্রিদিব রায় কিংবা অং শু প্রু চৌধুরীর মতো রাজাকার আর তাদের বংশধরেরা বাংলাদেশ তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কোন প্রকার চক্রান্ত করার দুঃসাহস দেখাতো না। আজ এই শোকের দিনে দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে মহান সেই নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করছি। সৃষ্টিকর্তা উনাকে আর উনার মরহুম পরিবারের সদস্যদের জান্নাতবাসী করুন।

লেখক: পার্বত্য গবেষক।

Email: parvedgehaider5235@gmail.com

Share this:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed