৭ দিন শেষ হয়নি ৩৩ বছরেও!

Share this:

নিউজ ডেস্কঃ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ৩৩ বছর ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে গুচ্ছগ্রামের ৪৫০ পরিবার । ১৯৮৬ পার্বত্য চট্টগ্রামের তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষেরা এখানে বসবাস শুরু করে । অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসরত এসব মানুষের নেই কোন নাগরিক সুবিধা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে পার্বত্য এলাকার অশান্ত পরিস্থিতির কারণে দুর্গম পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালিদের নিরাপত্তাহীনতার কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার বাবুছড়া গুচ্ছগ্রামে সরকারিভাবে মাত্র ৭ দিনের জন্য ৪৫০ পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় ৩৩ বছর। দীর্ঘ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছে হাজারো বাসিন্দা। গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের জন্য পানি নিষ্কাশন কিংবা পরিকল্পিত স্যানিটেশনের কোন ব্যবস্থা নেয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দিনের পর দিন পরিবারগুলো বসবাস করছে। সরকারিভাবে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের উন্নয়নের জন্য নেই কোন বরাদ্দ । ঘরের পাশে নোংরা খোলা নালায় মলমূত্র দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা জানান , ‘ ৩৩ বছর ধরে এখানে আমরা দুর্ভোগের জীবন কাটাচ্ছি। গবাদি পশু’র সাথে আমাদের বসবাস করতে হচ্ছে। ফলে বর্তমানে গুচ্ছগ্রামগুলোতে বস্তি এলাকার মত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গবাদিপশু ও বসতঘর একসাথে হওয়ায় মানবিক জীবনযাপন করছে তারা। ’

এদিকে গুচ্ছগ্রামের প্রবেশের সড়ক গুলো যেন নালা । ঘরবাড়ি গুলোর চারিদিকে গবাদি পশুর মূল-মূত্র, ময়লা আবর্জনা । ফলে ঘরগুলোও স্যাঁত স্যাঁতে। এভাবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থেকে অনেকে অসুস্থ হচ্ছে। বর্তমানে গুচ্ছগ্রামটিতে প্রায় ৩ হাজার বাসিন্দা মানবেতর জীবন যাপন করছে।

দীঘিনালার বাবুছড়া ইউপির সদস্য মো.আবদুল্লাহ জানান, ‘মানুষ এখানে অসহায়ভাবে বসবাস করছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মানুষ কোন রকমে বেঁচে আছে। সরকারি উদ্যোগে অন্যত্র পূর্ণবাসন, গুচ্ছগ্রামের রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা করলে তাঁদের কষ্ট অনেক লাঘব হতো।’

গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ লাঘবে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছে প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বলেন, ‘গুচ্ছগ্রামগুলো পানি নিষ্কাশন সবচেয়ে জরুরী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুচ্ছগ্রামবাসী’র জন্য স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) আওতায় প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পানি নিস্কাশনের জন্য প্রকল্প নেয়া হয়েছে।

Share this:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *