সেনাবাহিনীর টহলে জেএসএস (সন্তু) সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলি, সেনা সদস্য নিহত

Share this:

নিউজ ডেস্কঃ

রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে সেনাবাহিনীর টহলে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস সন্ত্রাসীরা অতর্কিত গুলি চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ১ সেনা সদস্য নিহত হয়েছে বলেও জানা গেছে।

জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিতভাবে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। অনুরুপ টহলের অংশ হিসেবে আজ (১৮ আগষ্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে কাপ্তাই সেনা জোনের অধিনস্ত রাজস্থলী আর্মি ক্যাম্প থেকে একটি টহল দল ক্যাম্প থেকে আনুমানিক ৪ কিঃমিঃ দক্ষিণ দিকে রাজস্থলী উপজেলার উপজেলার ২নং গাইন্দ্যা ইউনিয়নের পোয়াইতু পাড়া নামক এলাকায় নিয়মিত টহলে যায়। আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে টহল দল উক্ত স্থানে পৌঁছানোর পর কথিত বৌদ্ধ ধর্মীয় উপাসনালয় “কিয়াং ঘরে” লুকিয়ে থাকা সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস’র সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে সেনা টহল দলকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। জবাবে সেনা টহল দলও পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। এসময় গোলাগুলিতে মোঃ নাসিম নামে একজন সেনাসদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। আহত সেনা সদস্যকে তৎক্ষণাৎ চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর পোনে ১টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নিহত সৈনিক মাসুম কাপ্তাই-এ মোতায়েনরত ২৩ ইস্ট বেংগল রেজিমেন্টে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উক্ত স্থানে টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন আছে।

উল্লেখ্য, ধর্মীয় উপাসনালয়কে অভয়ারণ্য হিসেবে ব্যবহার করে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রায়শই সেখানে আত্নগোপন, অস্ত্র ভান্ডার গড়ে তোলাসহ নানান ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

এছাড়া গত ১৮ মার্চ পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল জেলার বাঘাইছড়িতে উপজেলা নির্বাচন শেষে ফেরার পথে নিরাপত্তাবাহিনী ও সরকারী কর্মকর্তাদের উপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। উক্ত হামলায় ৭ জন নিরীহ নিরাপত্তাবাহিনী ও সরকারী কর্মকর্তার প্রাণহানির ঘটে। এরপর সম্প্রতি বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলাতে জেএসএস (সন্তু লারমা গ্রুপ) বেশ ক’জন আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে। উক্ত ঘটনাবলী এবং রাজস্থলীতে আজ সেনা টহলের উপর সন্তু লারমা সমর্থিত জেএসএস (মূল দল)’র হামলার ঘটনায় এটা স্পষ্টতঃ প্রমাণিত যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরকারী সন্তু লারমার দল জেএসএস শান্তিচুক্তি অনুযায়ী সকল অস্ত্র জমা না করে এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যা প্রকারান্তে শান্তিচুক্তির বরখেলাপ। এদিকে শান্তি চুক্তির পর চুক্তি অনুযায়ী বেশ কিছু সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, একটি বিশাল এলাকায় নিরাপত্তা বলয়ের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলসমূহ সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নানান ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

Share this:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *