শুদ্ধি অভিযান এবার কক্সবাজারে, ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও নগদ টাকাসহ বিমানবন্দরে আটক ১

নিউজ ডেস্ক

ক্যাসিনো-জুয়ার আসর, চাঁদাবাজ, অবৈধভাবে সম্পদের মালিক, মাদক ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, ভূমিদস্যু ও শীর্ষ টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশের প্রভাবশালী মহলে। অভিযান শুরুর পর অনেক গডফাদারই পর্দার আড়ালে চলে গেছেন। আতঙ্কে আছেন চুনোপুঁটিরাও। তবে শুদ্ধি অভিযানের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ। ক্যাসিনো কারবারিদের বিরুদ্ধে এই অভিযান শুরু হলেও তা শেষ পর্যন্ত সেখানে সীমিত থাকেনি। এরই মধ্যে এই অভিযানে প্রভাবশালী ঠিকাদার, কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হয়েছেন। অভিযান শুরুর পরপরই দুর্নীতিবাজদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শঙ্কা এখনও কাটেনি। তবে অভিযানের পরবর্তী টার্গেট নিয়ে সর্বত্র এক ধরনের ধোঁয়াশা রয়েছে। কোথায় গিয়ে থামবে এই অভিযান তা নিয়ে রয়েছে নানা গুঞ্জন ও জল্পনা-কল্পনা। এমনকি অভিযানের পরিধি নিয়ে রয়েছে নানা মত।

রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ার পর এবার ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও নগদ টাকাসহ ঢাকা হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হয়েছেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম (৭৫)। গত ২৯ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাসী চালিয়ে লাগেজ ভর্তি ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও নগদ টাকাসহ তাকে আটক করে কাস্টমস পুলিশ। আটককৃত চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম উপজেলার সাহারবিল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজঘোনা এলাকার মৃত আবদুল মজিদের পুত্র ও বর্তমান চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদীর শ্বশুর।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমান বন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কায়কোবাদ বলেন, ২৯ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রিজেন্ট এয়ার ওয়েজের একটি ফ্লাইটে করে ঢাকা থেকে কক্সবাজার ফিরছিলেন চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম। বিমানে উঠার পূর্বে কাস্টম তল্লাসীর সময় লাগেজ ভর্তি বিপুল পরিমান ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও নগদ টাকাসহ তাকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মান্নান বাদি হয়ে আবদুল হাকিমের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, চলমান শুদ্ধি অভিযানে অবৈধভাবে বিপুল সম্পদের মালিক, সরকারি-বেসরকারি কাজে টেন্ডারবাজি, ভূমিদস্যুতা, জুয়া-মদের আসরের নিয়ন্ত্রক ও মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়দাতা, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আওয়ামীলীগ, বিএনপি, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, মাদক ব্যবসায়ী অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় আছেন বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে তাদের তালিকা তৈরি করে স্ব-স্ব গোয়েন্দা সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। নজরদারি এড়াতে সবাই চলাফেরা করছেন সতর্কতার সঙ্গে। এছাড়া গ্রেফতার আতঙ্কে সচরাচর স্থানও এড়িয়ে চলছেন এক সময়কার ত্রাস হিসেবে পরিচিত প্রভাবশালী নেতারা।

Share this:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *