জনগণের সমর্থন হারিয়ে দুই জেএসএস’র সাথে সমঝোতার আহবান ইউপিডিএফ’র!

নিউজ ডেস্ক

গত ১০ নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা (এমএন লারমা)’র ৩৬তম মৃত্যবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস ও জেএসএস (সংস্কার)’র আয়োজনে পৃথক কর্মসূচীতে জেএসএস নেতা উষাতন তালুকদার ও জেএসএস (সংস্কার) নেতা তাতিন্দ্র লাল পেলের দেয়া “পাহাড়ে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ”র আহবানকে স্বাগত জানিয়ে দুই জেএসএস’র সাথে একমত পোষন করে একপ্রকার সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। ১১ নভেম্বর সোমবার ইউপিডিএফ’র প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের সদস্য নিরন চাকমা কর্তৃক গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটির মুখপাত্র অংগ্য মারমা এম এন লারমার ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত সভায় জনসংহতি সমিতির উভয় অংশের পৃথকভাবে দেয়া সংঘাত বন্ধের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন।

ইউপিডিএফ ১৯৯৮ সাল থেকে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধের আহবান জানিয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি ও সাবেক সাংসদ ঊষাতন তালুকদার এবং জনসংহতি সমিতি (লারমা)-এর সাধারণ সম্পাদক তাতিন্দ্র লাল চাকমার আহবান যদি আন্তরিক হয় তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবশ্যই আন্তঃজুম্ম রক্তাক্ত রাজনৈতিক সংঘাতের অবসান হবে এবং ঐক্য ফিরে আসবে।’’ তিনি উভয় দলকে কথা ও কাজের মধ্যে মিল রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘‘ইউপিডিএফ অতীতের সংঘাতের সকল তিক্ত অভিজ্ঞতার বোঝা পেছনে ঝেড়ে ফেলে মহান নেতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার ‘ক্ষমা করা, ভুলে যাওয়া’ নীতির ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে ঐক্যের এক নতুন অধ্যায়ের সুচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে।’’ তিনি আরো বলেন, “ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত জনগণের জন্য কোন মঙ্গল বয়ে আনেনি, বরং জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এজন্য সাধারণ জনগণ মিছিল সমাবেশের মাধ্যমে আন্তরিকভাবে এই সংঘাত হানাহানি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে।” অংগ্য মারমা আরো বলেন, কোন সুস্থ মস্তিষ্ক ও বিবেকবোধ সম্পন্ন মানুষ জাতীয় ও জনস্বার্থে হানিকর ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত চাইতে পারে না এবং তাতে ইন্ধন, প্ররোচনা কিংবা উস্কানিও দিতে পারে না।

এদিকে এমএন লারমার ৩৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত সভায় জনসংহতি সমিতির উভয় অংশের পৃথকভাবে দেয়া বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে সংঘাত বন্ধের জন্য ইউপিডিএফের উক্ত বিবৃতিকে অনেকেই জনগণের সমর্থন হারিয়ে সমঝোতার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি খোদ ইউপিডিএফের বেশ কয়েকজন প্রথমসারির নেতাও সংগঠনটির এমন বিভ্রাট আহবানকে প্রত্যাখান করেছেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এর আগে ১০ নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা (এমএন লারমা)’র ৩৬তম মৃত্যবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস ও জেএসএস (সংস্কার)’র আয়োজনে পৃথক কর্মসূচীতে জেএসএস নেতা উষাতন তালুকদার ও জেএসএস (সংস্কার) নেতা তাতিন্দ্র লাল পেলে পাহাড়ে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধে সকলকে আহবান জানান।

প্রসঙ্গত, ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর মানবেন্দ্র নারায়ন লারমা অপর একটি সশস্ত্র গ্রুপের হাতে নিহত হন। তবে কথিত আছে বর্তমান জেএসএস প্রধান সন্তু লারমাই জেএসএস’র সভাপতি হবার লোভে নিজ বাহিনী দ্বারা বড় ভাই এমএন লারমাকে হত্যা করিয়েছেন।

Share this:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *