মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিপুরা জনজাতি

খগেশ্বর ত্রিপুরা

পৃথিবীর সবকিছু পরিবর্তনশীল। এই পরিবর্তন আকষ্মিকভাবে হয়নি। সবকিছু ধীরে ধীরে পরিবর্তন হয়ে অতীতের অবস্থা হতে বর্তমান পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছে। বিবর্তন অবিরাম ভাবে এগিয়ে চলছে এবং ভবিষ্যতে ও চলতে থাকবে। এগিয়ে চলার প্রক্রিয়াটি হচ্ছে পরিবর্তনের ধারা। পরিবর্তনের ধারার সাথে মানুষের স্পৃহারও পরিবর্তন ঘটে। স্পৃহার এই পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর হাতে নিপিড়িত নির্যাতনের হাত হতে কিভাবে উত্তরণ হওয়া যায়, চিন্তা করতে গিয়ে স্পৃহার জন্ম হয় এবং একসময় এই স্পৃহা পূর্ব পাকিস্তানের সর্বস্তরের মানুষের স্পৃহায় পরিণত হয়ে রাজনৈতিক দাবীতে পরিণত হয়। যার ফলে ১৯৪০সালে লাহোর প্রস্তাব ১৯৫২সালে ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১ইং সালে মহান মুক্তি যুদ্ধ বা স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

১৯৪০সালে যখন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন চলে তখন লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত ছিল বৃটিশদেরকে তাড়িয়ে রাষ্ট্র গঠন করা হলে ভারতবর্ষে মুসলিম অধ্যুষিত প্রধান ২টি অঞ্চলকে নিয়ে মুসলিম রাষ্ট্র গঠন করা হবে। কিন্তু বৃটিশদেরকে তাড়িয়ে ভারত উপমহাদেশকে উপনিবেশিকতা মুক্ত করলে পূর্ব পাকিন্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান ২টি পৃথক অঞ্চলকে নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠন করা হয়; যা ২টি ভূ-খন্ডের মধ্যে যেমনি প্রায় ২০০০ কিলোমিটার দুরত্ব তেমনি ২ দেশের মানুষের মধ্যে ভাষা, চেহারা, কৃষ্টি, সংস্কৃতির মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। শুধু সেই পার্থক্য নয়, দুই দেশের মানুষের মধ্যে দৃষ্টি ভংগিও পার্থক্য ছিল; যে দৃষ্টি ভংগির কারনে পশ্চিম পাকিস্তানীদের চেয়ে পূর্ব পাকিস্তানীরা জনসংখ্যায় দ্বিগুণ হওয়া সত্বেও রাষ্ট্রের শাসনভার তাদের হাতে ছিল বিধায় অবৈধ্যভাবে রাষ্ট্রভাষা উর্দূকরা হয়। দেশের উন্নয়ন বাজেট পশ্চিম পাকিস্তানীদের জন্যে ৭৫% ভাগ এবং পূর্ব পাকিস্তানীদের জন্যে ২৫% ভাগ রাখা হয়। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনী নিয়োগের ক্ষেত্রে যেখানে পশ্চিম পাকিস্তানঃ পূর্ব পাকিস্তান ১ঃ২ হওয়ার কথা, সেইক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানঃ পূর্ব পাকিস্তান ৫ঃ১ করা হয়েছে। শুধু তা নয়; ব্যবসা, বাণিজ্যে কুটনৈতিক প্রশাসন সহ সার্বিক ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানীদেরকে বঞ্চিত রেখে বিশাল বৈষ্যমের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেন পাকিস্তান সরকার। যার কারণে সেই দুঃশাসনের অভিশাপ হতে মুক্তি পাওয়ার জন্যে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের দানা বাঁধতে থাকে যা ১৯৭১ সালে ক্ষোভ বিস্ফোরণ ঘটে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। এই আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্বে ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর অসাধারণ নেতৃত্বের গুণাবলীর কারণে মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করতে এদেশের মানুষকে যেভাবে অনুপ্রাণিত করতে সক্ষম হয়েছে, তেমনি বহিঃবিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র নায়কদেরকে সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হন। এই সমর্থনের অংশ হিসাবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত সমর্থন জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে আমাদেরকে সহযোগীতা করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন পূর্ব পাকিস্তানীদের নির্মমভাবে অত্যচার শুরু করে তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী শরণসিং ২৫ই মার্চ কালরাত্রির পর বিশ্ববাসীকে ভারতের উদ্বেগের কথা জানান এবং তাদের দেশের ভিতরে জাতীয় ঐক্য এবং বিশ্বের কুটনৈতিক সমর্থন পাওয়ার জন্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এই পদক্ষেপের ফলে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা বেতার কেন্দ্রের নিয়মিত অনুষ্ঠান বন্ধ করে পূর্ব পাকিস্তানে পশ্চিম পাকিস্তানী কতৃক নির্মমভাবে আক্রমনের সংবাদ, বাংলাদেশের দেশাত্ববোধক গান এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বহিঃবিশ্বের সমর্থনের জন্যে আহবান জানিয়ে নিয়মিতভাবে প্রচার করতেন। এই প্রচারের অংশ হিসাবে ১৩ এপ্রিল ১৯৭১ইং সনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, “পূর্ববাংলায় পূর্ব পাকিস্তানীদের যেরূপ আক্রমণ ও নির্যাতন করা হচ্ছে তাতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র মানবিক বিবেচনায় ভারত চুপ থাকতে পারেনা।” বিশ্বনেতাদের কাছে তিনি এই বার্তা দেয়ার পর ৩০এপ্রিল ১৯৭১ইং সনে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করতে চুড়ান্তভাবে নির্দেশ প্রদান করেন। এই নির্দেশে ভারতের ইষ্টার্ন কমান্ডার চীফ অব স্টাফ লে.জেনারেল জেএফ আর জ্যাকবের নেতৃত্বে ভারতের সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে কতজন ভারতীয় সৈন্য প্রাণ হারিয়েছে তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কোথাও পাওয়া যায়নি। তবে ১৯৭৪ইং সালে ১৮জানুয়ারী তারিখে তদানিন্তন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ভাষাদানকালে ১৪ হাজার ভারতের জোয়ান রক্ত দেয়ার কথা জানিয়েছেন(সূত্র- বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নির্বাচিত দলিল. পৃষ্ঠা-৩৩৩)। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী যৌথভাবে পাকিস্তানী বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেন। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন জেনারেল আতাউর গণি ওসমানি এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষে নেতৃত্ব দেন ইষ্টার্ন কমান্ডার চীফ অব স্টাফ লে. জেনারেল জেএফআর জ্যাকব। যুদ্ধ চলাকালীন সময় ৩রা ডিসেম্বর ১৯৭১ইং সনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরাগান্ধী কলকাতা রেডিওতে বিশ্বনেতাদেরকে বাংলাদেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্যে বিশ্বনেতাদেরকে অনুরোধ জানিয়ে ভাষণ দেন এবং ৬ডিসেম্বর তারিখে তিনি বাংলাদেশকে প্রথম স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করেন।

বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের একটি জেলার নাম পার্বত্য চট্টগ্রাম। এই জেলার পাহাড়ী এবং বাঙ্গালী জনগোষ্ঠীর লোক বসবাস করে। পাহাড়ীদের মধ্যে ১ম সংখ্যাগরিষ্ঠ চাকমা, ২য় সংখ্যাগরিষ্ঠ মারমা এবং ৩য় সংখ্যাগরিষ্ঠ ত্রিপুরা। এই ৩সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিসত্ত্বার মধ্যে বান্দরবানে মারমা, রাঙ্গামাটিতে চাকমা এবং খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বসবাস করে। তাছাড়া ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর লোক বাংলাদেশের অপরাপর অঞ্চল যেমন- চট্টগ্রাম, সিলেট, হবিগঞ্চ, সুনামগঞ্চ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ি, মৌলভীবাজার এবং ঢাকায় বসবাস করে। অপরদিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বৃহৎ অংশ বসবাস করেন। তাছাড়া আসামের বুডোল্যান্ড, মিজুরাম, নাগাল্যান্ড, জুম্বুকাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশের মানালী জেলায়, উত্তরাঞ্চলের পিথুরাগড়ে, ত্রিপুরা জনজাতির লোক বসবাস করে। আগরতলার ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ককবরক এর লেকচারার শ্রীমতি অজিতা ত্রিপুরার লেখা “ত্রিপুরার আদিবাসী” নামক গ্রন্থে “ত্রিপুরা” নামক প্রবন্ধে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দার্জিলিং এ ভূর্য়াম মহকুমায় ত্রিপুরা বস্তীর অনুসন্ধান মিলেছে বলে কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার খবরে সন্ধান পাওয়া যায়। তাছাড়াও মায়নমার, থাইল্যান্ড, ভূটান, নেপালেও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর লোক বসবাস করে। সম্প্রতি ফান্সে, বৃটেনে, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডায় ত্রিপুরাদের বসবাস গড়ে উঠেছে। ত্রিপুরা জনজাতি অত্যন্ত শান্তিপ্রিয়, নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি এবং সরকারের প্রতি অত্যন্ত আনুগত্যশীল। একসময় তাঁরা অত্যন্ত পরাক্রমশালী জাতি হিসাবে একটানা ১৮৪জন মহারাজা রাজ্য শাসন করেছিলেন। কিন্তু কালের প্রবাহে বিবর্তন ধারায় পরিবর্তন হয়ে আসতে আসতে বর্তমানে একটি প্রান্তিক জাতিতে পরিনত হয়েছে। বর্তমানে এই জনজাতিকে জনজাতি হিসাবে আখ্যা না দিয়ে কোথাও কোথাও উপজাতি পাহাড়ী জাতি, আদিবাসী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হিসাবে আখ্যা দেয়া হয়। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী উপজাতি, পাহাড়ীজাতি, আদিবাসী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোনটাই নহে; তারা একটি জাতি। কালের বিবর্তনে মহাপরাক্রমশালী জাতি হতে ইতিবাচক পরিবর্তনের স্থলে নেতিবাচক পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে সংকীর্ন হতে আরও সংকীর্নতার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বর্তমান পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে চড়াই উতরাই অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে বিপন্ন হতে উত্তরণ ঘটাতে চায় এই জনজাতি। তাইতো পরিবর্তনের আকাঙ্খা নিয়ে এই জনজাতি ১৯৭১ইং সনে পূর্ব পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গ.বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এই যুদ্ধে শুধুমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামের ত্রিপুরারা নন, সমতলের অন্যান্য জেলার ত্রিপুরাও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। নিম্নে সকল ত্রিপুরা জাতির লোক মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তার তালিকা দেয়া হলো:-

১.হেমদা রঞ্জন ত্রিপুরা,খাগড়াছড়ি(কোম্পানী কমান্ডার, পার্বত্য চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধ দলের সর্বপ্রথম সংগঠক)।
২.সুবোধ বিকাশ ত্রিপুরা,খাগড়াছড়ি(মুক্তিযুদ্ধ কমান্ডার)।
৩.প্রীতি কান্তি ত্রিপুরা, রাঙ্গামাটি।
৪.নীলোৎপল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৫.রনবিক্রম ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৬.কান্তরাম ত্রিপুরা, বান্দরবান।
৭.সঞ্জয় দেববর্মা, হবিগঞ্জ।
৮.মহেন্দ্র দেববর্মা, হবিগঞ্জ।
৯.গোবিন্দ দেববর্মা, হবিগঞ্জ।
১০.সোনামনি দেববর্মা, হবিগঞ্জ।
১১.দেবেন্দ্র দেববর্মা, হবিগঞ্জ।
১২.ব্রজেন্দ্র দেববর্মা, হবিগঞ্জ।
১৩.দীনেশ দেববর্মা, হবিগঞ্জ।
১৪.রাজপদ্ম দেববর্মা, হবিগঞ্জ।
১৫.ভদ্রমনি দেববর্মা, হবিগঞ্জ।
১৬.যতিন্দ্র দেববর্মা, হবিগঞ্জ।
১৭.বিনয় দেববর্মা, হবিগঞ্জ।
১৮.সচিন্দ্র দেববর্মা, হবিগঞ্জ।
১৯.ইন্দ্রমণি দেববর্মা, হবিগঞ্জ।
২০.হরেন্দ্র দেববর্মা, হবিগঞ্জ।
২১.বিধু দেববর্মা, হবিগঞ্জ।
২২.গুণমনি দেববর্মা, হবিগঞ্জ।
২৩.গোপাল কুমার দেববর্মা, হবিগঞ্জ।
২৪.বসন্ত কুমার ত্রিপুরা, রাঙ্গামাটি।
২৫.লক্ষিধন ত্রিপুরা, রাঙ্গামাটি।
২৬.বিজয় কুমার ত্রিপুরা, রাঙ্গামাটি।
২৭.নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
২৮.রেনুরায় ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
২৯.রথীন্দ্র ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৩০.সুরেশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৩১.হৃদয় কুমার ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৩২.পূর্ণ কুমার ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৩৩.নির্পধন ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৩৪.নীলকুমার ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৩৫.ভাগ্যধন ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৩৬.ভূপেন ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৩৭.জয়কুমার ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৩৮.অন্নকুমারা ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৩৯.মোহন ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৪০.ভূপেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৪১.হরেন্দ্র কুমার ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৪২.বিন্দু কুমারা ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৪৩.ব্রজেন্দ্র কুমার ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৪৪.লোকনাথ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৪৫.যুগল দাশ বৈষ্ণব, খাগড়াছড়ি।
৪৬.রজ্ঞিত দেববর্মা, খাগড়াছড়ি।
৪৭.কালাচান দেববর্মা, খাগড়াছড়ি।
৪৮.নীলা মোহন ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৪৯.প্রিয়জ্যোতি রোয়াজা, খাগড়াছড়ি।
৫০.রাজেন্দ্র ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৫১.রনজিৎ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৫২.ফিলিপ বিজয় ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৫৩.গগণ চন্দ্র ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৫৪.ভূবন মোহন ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৫৫.মণীন্দ্র কিশোর ত্রিাপুরা, খাগড়াছড়ি।
৫৬.বোদন কুমার ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৫৭.কর্ণ মোহন ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৫৮.লাল মোহন ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৫৯.ভূচৈন্দ্র লাল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৬০.পূর্ণ মোহন ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৬১.চিত্ত কুমার ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৬২.বিজয় ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।
৬৩.ল্যান্স নায়েক অরিন্দ্রা ত্রিপুরা(ঠিকানা জানা নাই)
৬৪.ভূবন ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি(সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত)।
৬৫.সিরাজন ত্রিপুরা, বান্দরবান।

এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক হিসাবে কাজ করেছেন, মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন, খাদ্য আশ্রয় সহ নানাভাবে সাহায্য সহযোগীতা করেছেন এবং শহীদ হয়েছেন এইরূপ কিছু ব্যক্তির নাম নিম্মে তুলে ধরা হলো:-

১.বরেন ত্রিপুরা, মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক, খাগড়াছড়ি।
২.শিবরাম রোয়াজা,খাগড়াছড়ি (পরশুরাম মৌজার হেডম্যান, রামগড়)।
৩.শুধাংশু কার্বারী, খাগড়াছড়ি (পাগলাপাড়া, রামগড়)।
৪.বিলাসিং কার্বারী(শহীদ), খাগড়াছড়ি (কুমারী পাড়া, রামগড়)।
৫.সুরেন্দ্র ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি (গাড়ীটানা, মানিকছড়ি)।
৬.সুবিলা ত্রিপুরা(শহীদ), বান্দরবান।

(তথ্যসূত্র:- মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরা-১৬: কালিগজিয়া ত্রিপুরা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্তম্ভ-১৯৭১, মুকুল ত্রিপুরা)

১৯৭১ইং সনের মহান স্বাধীন্তা সংগ্রামে আত্মনিয়োগকারী বীর মুক্তিযুদ্ধাগণের নামের তালিকা, গ্রাম:-কালিগরিয়া, ডাকঘর:- বাহুবল, উপজেলা:- বাহুবল, জেলা:- হবিগঞ্জ। বীর মুক্তিযুদ্ধা কমান্ড্যাস্ট মানিক চৌধুরীর নেতৃত্বে যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বীরমুক্তিযুদ্ধাদের নামের তালিকা(ফেইসবুক)। (উল্লেখ্য যে, কুমিল্লা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম এলাকার সহ অনান্য জেলায় বসবাসরত ত্রিপুরাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধাদের তালিকা পাওয়া যায়নি।)

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি তাদের নৈতিক সমর্থন এবং পার্শ্ববর্তী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সহযোগীতা ও সমর্থনের পিছনে নৈতিকতা মানদন্ডে এক গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এই কারণগুলো বাংলাদেশে বসবাসরত নেতৃস্থানীয় ত্রিপুরা নেতৃবৃন্দ এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে বসবাসরত ত্রিপুরা নেতৃবৃন্দের মুখে অনেক সময় আমরা সংবেদনশীলতা পূর্ণ মন্তব্যে শুনতে পায়। যেমনি ২০১৭ইং সনে ত্রিপুরা রাজ্যে ধলাই জেলায় লংতারায় ভ্যালীর মনু বøক এ ধুমাছড়ায় ত্রিপুরা রাজ্যের অরাজনৈতিক সংগঠন ‘চুবালাই বুথু’ কতৃক আয়োজিত রাজ্য ভিত্তিক ১৬তম বৈসু উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ পেয়ে যোগদান কালে অনেক মন্ত্রী এবং এমএলএ দের সাথে আলোচনা কালে তাঁরা আমাদের দেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা আলোচনা করেছিলাম। তাঁদের কথা শুনে আমি আমার বক্তব্যে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত সরকার, ত্রিপুরা রাজ্য সরকার এবং ত্রিপুরা রাজ্যের ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীর সার্বিক সহযোগীতার কথা স্মরণ করে আমার দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সাবেক সাংসদ ও তৎকালীন পার্বত্য চট্টগ্রাম আভ্যন্তরিণ উদ্ভাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পূর্ণবাসন এবং ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরনার্থী প্রত্যাবাসন ও পূর্ণবাসন সংক্রান্ত টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান(প্রতিমন্ত্রী) যতীন্ত্র লাল ত্রিপুরা এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর পক্ষে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছি। ২দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত উক্ত বৈসু মেলায় অন্যান্যের মধ্যে ১ম দিন উপস্থিত ছিলেন উদ্বোধক হিসাবে ত্রিপুরা উপজাতি স্বশাসিত জেলা পরিষদ’র চেয়ারম্যান ড. রনজিৎ দেববর্মা, ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের উপজাতি কল্যাণ ও কারা মন্ত্রী মনীন্দ্র রিয়াং, এমএলএ দিবাচন্দ্র রাংখল, বর্তমান পূর্ব ত্রিপুরাসনের এমপি রেবতী ত্রিপুরা, টিটিএএডিসি’র নির্বাহী সদস্য প্রতিরাম ত্রিপুরা, এমএলএ নিরাজয় ত্রিপুরা, প্রাক্তন টিটিএএডিসি’র নির্বাহী সদস্য গজেন্দ্র ত্রিপুরা, টিটিএএডিসি’র সদস্য ও মনু বøক চেয়ারম্যান মতিলাল শুক্লাবৈদ্য। ২য় দিনে অনুষ্ঠানে শুভ উদ্বোধক হিসাবে সাংসদ জীতেন্দ্র চৌধুরী উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে উপস্থিত থাকতে না পারলে এমডিসি মতিলাল শুক্লবৈদ্য এবং আমাকে দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুভ উদ্বোধন করা হয়। তাদের সাথে আলাপ চারিতার মাধ্যমে উঠে আসে যে, ১৯৭১ইং সনে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে পাকিস্তানীদের পাশ্চবিক অত্যাচারে (সনাতন সম্প্রদায়ের) প্রায় ২২ লক্ষ মানুষ দেশ ত্যাগ করে ত্রিপুরা রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছেন সেই সময় ত্রিপুরার জনসংখ্যা নাকি ১৭লক্ষ যা প্রত্যাগমন শরনার্থীদের চেয়ে ৫লক্ষ কম। কিন্তু ত্রিপুরা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার চেয়ে শরনার্থীর সংখ্যা ৫লক্ষ বেশী হওয়া সত্বেও ত্রিপুরা সরকার তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন যেটি প্রতিবেশী দেশ হিসাবে আমাদের জন্যে অবশ্যই পূর্ণ মাত্রায় তাদের আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার বহিঃপ্রকাশ। শুধু তা নয় ত্রিপুরা রাজ্যের ত্রিপুরী জনগোষ্ঠী যদি এই প্রত্যাগত শরনার্থীর বিষয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতো তখনি হয়তো রাজ্য সরকারকে এত বিশাল শরনার্থীদেরকে আশ্রয় ও পূর্ণবাসনের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতো। কিন্তু যেমনি ত্রিপুরা রাজ্য সরকার আন্তরিকতার সহিত শরনার্থীদেরকে গ্রহণ করেছে তেমনি রাজ্যের হিন্দু বাঙ্গালী ও ককবরক ভাষী ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীও আন্তরিকতার সহিত শরনার্থীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে। অধিকন্তু তৎকালীন ত্রিপুরা মহারাজা সাবেক ত্রিপুরা রাজ্যের পূর্বাসনের লোকসভা(সংসদ) সদস্য মহারাজা কিরিট বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর এবং তার সহধর্মিনী ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের এমএলএ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভুকুমারী দেবী মুক্তিযুদ্ধকে গতিশীল করার জন্যে নানাভাবে সহযোগিতা করেছিলেন এবং মহারাজার বাসবভন রাসপ্রাসাদ “উজয়ন্তী প্যালসটি” ছেড়ে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের কন্ট্রোলরুম করা হয়। এই অসামান্য সহযোগীতার জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ বেসামরিক ক্ষেতাব “স্বাধীনতা পদক” (মরনোত্তর) এ ভূষিত করেন প্রয়াত মহারাজা কিরিট বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরকে; যাঁর পক্ষে পদকটি গ্রহণ করেছিলেন মহারাজের সহধর্মিনী বিভুকুমারী দেবী মানিক্য বাহাদুর এবং যুবরাজ প্রদুৎ কিশোর মাণিক্য বাহাদুর।

মা, মাতৃভূমি ও মাতৃভাষা এই ৩টি শব্দ পারস্পারিক সম্পর্কযুক্ত। যেমন অধিকারও কর্তব্য এবং দেহও মন একটি অপরটির সাথে সম্পৃত্ত। যেখানে অধিকার আছে সেখানে অবশ্যই কর্তব্য আছে, অনুরূপভাবে দেহও মনের মধ্যেও সম্পৃত্ত রয়েছে। যদি কেউ দেহে আঘাত পায় মনে বা হৃদয়ে ব্যথা পাবে এবং হৃদয়ে ব্যথা পেলে দেহে তা প্রভাব বিস্তার করবে। তাইতো কোন ব্যক্তি দেহে কোথাও কাটা গেলে কিংবা আঘাত পেলে হৃদয়ে তা ব্যথার কাতর হয় এবং কেউ কোন খারাপ সংবাদ শুনলে শরীরে তথা মুখ মন্ডল সহ গতিবিধিতে অস্থিরতার ছাপ ফুটিয়ে উঠে, অপরদিকে কোন সুসংবাদ পেলে হৃদয়ের সাথে দেহের সম্পর্কযুক্ত আছে বলেই শরীরে উৎফুল্লের ভাব ফুটে উঠে। দার্শনিক উইলিয়াম লাইবনিজ তত্তে¡ বলা হয়েছে যে, “একজন সুদক্ষ ঘড়ি প্রস্তুতকারী যেমন এমন ২টি ঘড়ি তৈরী করা সম্ভব, যে ঘড়িরর চেহারা স্বতন্ত্র হয়েও একই সময় নির্দেশ করে।” এমনকি ২টি নয় যত ঘড়ি তৈরী হউক না কেন একটি ঘড়ির সাথে অন্য ঘড়িগুলোর ডিজাইনে মিল না থাকলেও কিন্তু সকল ঘড়ির একই সময় নির্দেশ করবে। তেমনি পৃথিবীর সকল মানুষ চেহারায়, আচরণে, জ্ঞান বিজ্ঞানে স্বাতন্ত্র হলেও নিজেদের সুখ, শান্তি ও অগ্রগতির বিষয়ে অভিন্ন চিন্তা করে। এই অভিন্ন চিন্তার কারণেই সমাজ ও সভ্যতা এগিয়ে যায়। বিন্দু বিন্দু জলের সমারোহে মহাসমুদ্রের সৃষ্টি হয়, ছোট ছোট বালু কণার সমারোহে মহাদেশ এবং ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে পরিবার, সমাজ, জাতির সৃষ্টি হয় তথাপি এককভাবে ‘বিন্দুজল’ ‘ছোট বালকণা’ এবং একজন ব্যক্তি স্বাতন্ত্রের কারণে কোন দাম নেই। তার জন্যে দরকার একক বা স্বতন্ত্র হতে সমারোহ। সমারোহের জন্যে দরকার প্রেম, যে প্রেমের সাহায্যে পারস্পারিক আকর্ষনের মাধ্যমে একে অপরের সাথে মিলন ঘটে। বৈষ্ণব ধর্মে বিধৃত আছে পরম সৃষ্টিকর্তা সর্বাকর্ষক এবং সবার প্রিয়। সবার প্রিয় হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো তিনি (সৃষ্টিকর্তা) চির সুন্দর, চিরমধুর এবং করুণাময়। তাঁর এই মধুর আচরণ ও করুণাময়ের প্রতি ভক্তি ও প্রেম নিবেদনের মাধ্যমে স্ব স্ব ধর্মের অনুসারী ধর্মীয় সাধকগণ ইহকাল ও পরকালের সুখ, ,শান্তি ও কল্যাণের কথা মাথায় রেখে অনাবিল আনন্দঘণ পরিবেশ সৃষ্টিকরে সৃষ্টিকর্তার সাথে একাকার হয়ে যায়। অনুরূপভাবে এ যুগে রাজনৈতিক নেতাগণ তাদের ন্যায় নীতি ও জনহিতকর আচরন ও কার্যকলাপের মাধ্যমে অপরিসীম জনসমর্থন পেয়ে থাকেন। যেমনি ১৯৭১ইং সানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পেয়েছিলেন। ধর্মীয় সাধক যেমন ইহকাল ও পরকালের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যে সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনার মাধ্যমে একাকার হয়ে যায়। তেমনি সাধারণ মানুষও নিজের এবং পরিবারের জন্যে একাকার হয়ে কাজ করে এবং এই মনোবৃত্তির কারণেই নিজের এবং সমাজের জন্যে বিশেষ কোন ইতিবাচক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে; পরবর্তীতে যেন সেই ইতিবাচক কার্যক্রমের পরিবর্তিত সফলতা অর্জন হলে সুফল ভোগ করতে পারে। এই প্রসঙ্গে মোহাম্মদ বরকতুল্লাহর একটি উক্তি প্রনিধানযোগ্য “একই বিদুৎপ্রবাহ যেমন নগরীর লক্ষ প্রদীপের ভিতর দিয়া আপনাকে ব্যক্ত করিতেছে তেমনি একই মহাপ্রেরণা সমগ্র মানব সমষ্টির ভিতর দিয়া কোন এক দূর লক্ষ্যের পানে ছুটিয়া চলিয়াছে। সেই প্রেরণা মানুষের ভিতর দিয়া আপনি বাঁচিয়া থাকিতে চায়। তাই মানুষ বাঁচিতে এতসাধ।” বরকতুল্লাহর এই প্রেরণার মতো বঙ্গবন্ধু নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রামে অসংখ্য মানুষ প্রেরণা নিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে যে সংগ্রাম সুনিয়ন্ত্রিত এবং সুচালিতও বটে। তাই তো অতি অল্প সময়ের মধ্যে দেশকে যেমনি শক্রমুক্ত করে স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন, তেমনি মিত্রবাহিনী ভারতীয় সেনাবাহিনীকে তাদের দেশে ফেরৎ পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন। এই মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণের মধ্যদিয়ে নিজেদেরকে ব্যক্ত করার লক্ষ্যপানে পার্বত্য চট্টগ্রামের ত্রিপুরা জনজাতির লোক মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তার পাশাপাশি ত্রিপুরা রাজ্যের ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীসহ প্রয়াত ত্রিপুরা মহারাজা কিরিট বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ সহযোগীতার হাত বাড়িয়েছিলেন। যে সহযোগীতার কারণে গণতন্ত্রের মানসকন্যা, উন্নয়নের রূপকার, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টা, মানবতার মা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মাধ্যমে যেমনি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রামের তৃতীয় সংখ্যা গরিষ্ঠ মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃিত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বসবাসকারী ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণের ক্ষেত্রে নিশ্চয় ইতিবাচক সহযোগীতার হাত সম্প্রসারণ করবেন বলে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী আশা পোষণ করেন।

লেখক:- খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য, লতিবান ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

Share this:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *